কয় সংখ্যা, কতবার বিপ্লব
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, শেখ হাসিনা সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন। কেউ একে বলছেন দ্বিতীয় ‘স্বাধীনতা’, কেউ বলছেন ‘বিপ্লব’। অথচ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সংবিধানের অধীনেই শপথ নিয়েছে এই সরকার। সাংবিধানিক কাঠামো মেনেই এখনো আওয়ামী লীগের নিযুক্ত রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান। রয়েছে সেনাবাহিনী, বিচার ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের সকল পুরোনো কাঠামো– কিছু ব্যক্তি বাদে। স্বাধীনতা বা বিপ্লব, সেটা রাষ্ট্রের পুরানো আইন মেনে হয় না; তাকে ধ্বংস করেই নতুনের আর্বিভাব হয়। এটা প্রকৃত বিপ্লব ও স্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতন যে কোনো লোকেরই বোধগম্য।
মানবজাতির ইতিহাসে বিপ্লবের বহু উদাহরণ রয়েছে, এর মধ্যে শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য উল্লেখযোগ্য বিপ্লবগুলো হলো– ১৮৭১ সালের প্যারি কমিউন, ১৯১৭ সালে রাশিয়ার মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব, ১৯৪৯ সালে চীনের নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব, ভিয়েতনাম ও কিউবার জাতীয় মুক্তির বিপ্লব– ইত্যাদি। এর প্রতিটাতেই পুরানো রাষ্ট্রব্যব্যস্থাকে চূর্ণ করে নতুন ধরনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেখান থেকে সকল সাম্রাজ্যবাদের শোষণ-নিয়ন্ত্রণ উচ্ছেদ হয়েছিল। দেশীয় দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া ও সামন্তবাদ উচ্ছেদ হয়েছিল। নিপীড়িত জাতি-জনগণের স্বার্থক্ষাকারী লাল ফৌজ (গণমুক্তি বাহিনী) পুরানো বাহিনীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। রাজনীতি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল।
ব্রিটিশ ভারত থেকে এ পর্যন্ত এদেশের বিপ্লবীরা অব্যাহতভাবে লড়াই-সংগ্রাম করে আসছেন। কিন্তু বিপ্লব হয়নি। স্বাধীনতা মানে পরাধীনতা থেকে মুক্তি। সেদিক থেকে ’৪৭ সালে ব্রিটিশ বিদায়ের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি, কারণ সাম্রাজ্যবাদীরা তখন নয়াউপনিবেশিক নীতিতে ব্রিটিশের অনুগত দালালদের দ্বারা ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের সৃষ্টি করে ভারতকে বিভক্ত করেছিল। যেখানে ব্রিটিশ শারীরিকভাবে চলে গেলেও তাদেরই দালাল শাসকশ্রেণির হাতে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব ছিল।
’৪৭-এর পর ভারত এবং পাকিস্তান নতুন ধরনের পরাধীন রাষ্ট্রকে স্বাধীন বলার মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদের দালাল শাসকশ্রেণিকে দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী বলে স্বাধীনতা প্রশ্নে বিপ্লবাকাঙ্ক্ষী জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে/হচ্ছে। ’৭১ সালে পাকিস্তানের জাতীয় নিপীড়ন থেকে মুক্ত হতে গিয়ে আমাদের দেশ সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতের দালালদের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টি করে নয়াপরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছিল। একেও স্বাধীনতাই বলা হয়।
অর্থাৎ, দেখা যাচ্ছে বুর্জোয়া ও সাম্রাজ্যবাদী সংজ্ঞায় ’৪৭ সালে একবার দেশ স্বাধীন হয়েছিল; দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয় ’৭১ সালে। আবার ’৭৫-এর আগস্ট, ’৭৫-এর ৭ নভেম্বর, ’৯০-এর ডিসেম্বরে কয়েকবার এদের বিপ্লব ও স্বাধীনতা হয়েছে। এখন আবার বিপ্লব ও স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে। কতবার এদেশ স্বাধীন হবে? কত নম্বর বিপ্লব হবে?
আজকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনকেও বিপ্লব, দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলার মধ্য দিয়ে বিপ্লব ও স্বাধীনতা প্রশ্নে নতুনভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা যে বিপ্লবের দাবি করছে তা প্রকৃতপক্ষে সাংবিধানিক সংকট থেকে বেরুনোর একটি গোজামিল ছাড়া আর কিছু নয়। “অন্তর্বর্তী সরকার” ’৭১-পরবর্তী প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণিরই ধারাবাহিকতা। সেজন্য তারা পুরোনো নিপীড়ক রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভেঙে দিয়ে আন্দোলনকারী ও নিপীড়িত জনগণের গণক্ষমতার সংস্থা গড়ে তোলার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
যারা বিপ্লবের কথা বলছে তারা এ সরকারের গণবিরোধী কর্মসূচির বিরোধিতা করছে না। যথা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র, গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনে গুলি চালিয়ে হত্যা করা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ না করা। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার না করা, পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন অব্যাহত রাখা। সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতের সাথে তোষণ নীতি চালানো– ইত্যাদি। এগুলো কোনো বিপ্লবী কাজ নয়। বরং তারা নিজেদের শ্রেণি ও গোষ্ঠীস্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এখানে শুধু মুখ বদল হয়েছে এবং শাসকশ্রেণিরই ভিন্ন গোষ্ঠী ক্ষমতা হাতে নিয়েছে। পুরানো রাষ্ট্রযন্ত্রটাকে মেরামত করছে। এবং তারা শ্রমিক-কৃষকসহ ব্যাপক জনগণের বিরুদ্ধে নতুন স্বৈরতন্ত্রী চেহারায় আবির্ভূত হচ্ছে।
প্রকৃত স্বাধীনতা বা বিপ্লবের জন্য সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ এবং তাদের দালাল বড় ধনী শ্রেণিকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করতে হবে, তাদের স্বার্থরক্ষাকারী পুরোনো রাষ্ট্রকাঠামো উচ্ছেদ করতে হবে। সাম্রজ্যবাদের নির্ভরতায় পুরানো সংবিধান, সেনাবাহিনীসহ সকল রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিচারব্যবস্থা অক্ষুন্ন রেখে শাসকশ্রেণির ক্ষমতার পালাবদলের সংস্কার আর বিপ্লব এক কথা নয়, তা উপরেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং অন্তর্বর্তী সরকার, তারা আমূল পরিবর্তনে নয়, বরং কিছু সংস্কারের চেষ্টা করছে। কাজেই বুলিতে বিপ্লবী হলেও কার্যত এগুলো জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং নিজেদের সাংবিধানিক সংকট থেকে বের হওয়ার বোলচাল মাত্র।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কয় সংখ্যা, কতবার বিপ্লব
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, শেখ হাসিনা সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন। কেউ একে বলছেন দ্বিতীয় ‘স্বাধীনতা’, কেউ বলছেন ‘বিপ্লব’। অথচ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সংবিধানের অধীনেই শপথ নিয়েছে এই সরকার। সাংবিধানিক কাঠামো মেনেই এখনো আওয়ামী লীগের নিযুক্ত রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান। রয়েছে সেনাবাহিনী, বিচার ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের সকল পুরোনো কাঠামো– কিছু ব্যক্তি বাদে। স্বাধীনতা বা বিপ্লব, সেটা রাষ্ট্রের পুরানো আইন মেনে হয় না; তাকে ধ্বংস করেই নতুনের আর্বিভাব হয়। এটা প্রকৃত বিপ্লব ও স্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতন যে কোনো লোকেরই বোধগম্য।
মানবজাতির ইতিহাসে বিপ্লবের বহু উদাহরণ রয়েছে, এর মধ্যে শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য উল্লেখযোগ্য বিপ্লবগুলো হলো– ১৮৭১ সালের প্যারি কমিউন, ১৯১৭ সালে রাশিয়ার মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব, ১৯৪৯ সালে চীনের নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব, ভিয়েতনাম ও কিউবার জাতীয় মুক্তির বিপ্লব– ইত্যাদি। এর প্রতিটাতেই পুরানো রাষ্ট্রব্যব্যস্থাকে চূর্ণ করে নতুন ধরনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেখান থেকে সকল সাম্রাজ্যবাদের শোষণ-নিয়ন্ত্রণ উচ্ছেদ হয়েছিল। দেশীয় দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া ও সামন্তবাদ উচ্ছেদ হয়েছিল। নিপীড়িত জাতি-জনগণের স্বার্থক্ষাকারী লাল ফৌজ (গণমুক্তি বাহিনী) পুরানো বাহিনীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। রাজনীতি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল।
ব্রিটিশ ভারত থেকে এ পর্যন্ত এদেশের বিপ্লবীরা অব্যাহতভাবে লড়াই-সংগ্রাম করে আসছেন। কিন্তু বিপ্লব হয়নি। স্বাধীনতা মানে পরাধীনতা থেকে মুক্তি। সেদিক থেকে ’৪৭ সালে ব্রিটিশ বিদায়ের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি, কারণ সাম্রাজ্যবাদীরা তখন নয়াউপনিবেশিক নীতিতে ব্রিটিশের অনুগত দালালদের দ্বারা ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের সৃষ্টি করে ভারতকে বিভক্ত করেছিল। যেখানে ব্রিটিশ শারীরিকভাবে চলে গেলেও তাদেরই দালাল শাসকশ্রেণির হাতে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব ছিল।
’৪৭-এর পর ভারত এবং পাকিস্তান নতুন ধরনের পরাধীন রাষ্ট্রকে স্বাধীন বলার মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদের দালাল শাসকশ্রেণিকে দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী বলে স্বাধীনতা প্রশ্নে বিপ্লবাকাঙ্ক্ষী জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে/হচ্ছে। ’৭১ সালে পাকিস্তানের জাতীয় নিপীড়ন থেকে মুক্ত হতে গিয়ে আমাদের দেশ সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতের দালালদের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টি করে নয়াপরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছিল। একেও স্বাধীনতাই বলা হয়।
অর্থাৎ, দেখা যাচ্ছে বুর্জোয়া ও সাম্রাজ্যবাদী সংজ্ঞায় ’৪৭ সালে একবার দেশ স্বাধীন হয়েছিল; দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয় ’৭১ সালে। আবার ’৭৫-এর আগস্ট, ’৭৫-এর ৭ নভেম্বর, ’৯০-এর ডিসেম্বরে কয়েকবার এদের বিপ্লব ও স্বাধীনতা হয়েছে। এখন আবার বিপ্লব ও স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে। কতবার এদেশ স্বাধীন হবে? কত নম্বর বিপ্লব হবে?
আজকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনকেও বিপ্লব, দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলার মধ্য দিয়ে বিপ্লব ও স্বাধীনতা প্রশ্নে নতুনভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা যে বিপ্লবের দাবি করছে তা প্রকৃতপক্ষে সাংবিধানিক সংকট থেকে বেরুনোর একটি গোজামিল ছাড়া আর কিছু নয়। “অন্তর্বর্তী সরকার” ’৭১-পরবর্তী প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণিরই ধারাবাহিকতা। সেজন্য তারা পুরোনো নিপীড়ক রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভেঙে দিয়ে আন্দোলনকারী ও নিপীড়িত জনগণের গণক্ষমতার সংস্থা গড়ে তোলার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
যারা বিপ্লবের কথা বলছে তারা এ সরকারের গণবিরোধী কর্মসূচির বিরোধিতা করছে না। যথা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র, গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনে গুলি চালিয়ে হত্যা করা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ না করা। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার না করা, পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন অব্যাহত রাখা। সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতের সাথে তোষণ নীতি চালানো– ইত্যাদি। এগুলো কোনো বিপ্লবী কাজ নয়। বরং তারা নিজেদের শ্রেণি ও গোষ্ঠীস্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এখানে শুধু মুখ বদল হয়েছে এবং শাসকশ্রেণিরই ভিন্ন গোষ্ঠী ক্ষমতা হাতে নিয়েছে। পুরানো রাষ্ট্রযন্ত্রটাকে মেরামত করছে। এবং তারা শ্রমিক-কৃষকসহ ব্যাপক জনগণের বিরুদ্ধে নতুন স্বৈরতন্ত্রী চেহারায় আবির্ভূত হচ্ছে।
প্রকৃত স্বাধীনতা বা বিপ্লবের জন্য সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ এবং তাদের দালাল বড় ধনী শ্রেণিকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করতে হবে, তাদের স্বার্থরক্ষাকারী পুরোনো রাষ্ট্রকাঠামো উচ্ছেদ করতে হবে। সাম্রজ্যবাদের নির্ভরতায় পুরানো সংবিধান, সেনাবাহিনীসহ সকল রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিচারব্যবস্থা অক্ষুন্ন রেখে শাসকশ্রেণির ক্ষমতার পালাবদলের সংস্কার আর বিপ্লব এক কথা নয়, তা উপরেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং অন্তর্বর্তী সরকার, তারা আমূল পরিবর্তনে নয়, বরং কিছু সংস্কারের চেষ্টা করছে। কাজেই বুলিতে বিপ্লবী হলেও কার্যত এগুলো জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং নিজেদের সাংবিধানিক সংকট থেকে বের হওয়ার বোলচাল মাত্র।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র
